তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়াতু পড়ার পেছনে ইসলামী ঐতিহ্যে একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং প্রচলিত ঘটনা রয়েছে, যা মূলত মিরাজ বা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণের সাথে সম্পৃক্ত।
ইসলামিক বর্ণনা ও আলেমদের আলোচনা অনুযায়ী, এই দোয়াটি মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় রাসুলের মধ্যে সংঘটিত একটি কথোপকথনের নির্যাস। ঘটনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
মিরাজের সেই পবিত্র কথোপকথন:
যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ রাতে সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করে মহান আল্লাহর আরশের সন্নিকটে পৌঁছান, তখন স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে এক অভাবনীয় কথোপকথন হয়।
নবীজির সম্ভাষণ: মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে নবীজি (সা.) বিনয় ও সম্মানের সাথে বললেন:
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ
(আত্তাহিইয়াতু লিল্লা-হি ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাতু)
অর্থ : "যাবতীয় সম্মান, ইবাদত এবং পবিত্র কাজসমূহ একমাত্র আল্লাহর জন্য।"
আল্লাহর প্রতিউত্তর: দয়াময় আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে উত্তরে বললেন:
السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
(আসসালামু ‘আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু)
অর্থ : "হে নবী! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর দয়া ও বরকত নাজিল হোক।"
নবীজির উম্মতপ্রেম: আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও আশীর্বাদ পেয়েও নবীজি (সা.) তাঁর গুনাহগার উম্মতকে ভুলে যাননি। তিনি সাথে সাথেই বললেন:
السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ
(আসসালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন)
অর্থ: "আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।"
ফেরেশতাদের সাক্ষ্য: এই মহান দৃশ্য দেখে সিদরাতুল মুনতাহায় উপস্থিত ফেরেশতারা (বিশেষ করে জিবরাইল আ.) একযোগে সাক্ষ্য দিয়ে বলে উঠলেন:
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
(আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু)
অর্থ: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।"
কেন আমরা এটি নামাজে পড়ি?
নামাজকে বলা হয় "মোমিনের মিরাজ"। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজে গিয়ে যেভাবে সরাসরি আল্লাহর সাথে কথোপকথন করেছিলেন, একজন মুসল্লি যখন নামাজে বসে আত্তাহিয়াতু পাঠ করেন, তখন তিনি যেন সেই পবিত্র মুহূর্তটিকেই স্মরণ করেন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই বা বসি, তখন আমরা সরাসরি আমাদের রবের সামনেই অবস্থান করি।
