![]() |
| Theislamicpost.com |
মসজিদ আল আকসার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
মসজিদ আল আকসা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটি কেবল একটি সাধারণ মসজিদ নয়, বরং ইসলামের প্রথম কিবলা এবং ইতিহাসের অসংখ্য নবী-রাসূলের স্মৃতিবিজড়িত একটি পূণ্যভূমি।
১. আদি ইতিহাস ও ভিত্তি
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, কাবা শরীফ নির্মাণের ৪০ বছর পর মসজিদ আল আকসা নির্মিত হয়। হযরত আদম (আ.) এর ভিত্তি স্থাপন করেন বলে অনেকে মনে করেন। পরবর্তীতে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং হযরত সুলাইমান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুনঃনির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন।
২. ইসলামের প্রথম কিবলা
রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় থাকাকালীন এবং মদিনায় হিজরতের পরবর্তী প্রায় ১৭ মাস পর্যন্ত মুসলমানরা এই মসজিদের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন। পরে আল্লাহর নির্দেশে কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার বিধান নাজিল হয়।
৩. মিরাজ ও মসজিদুল আকসা
ইসলামের ইতিহাসে মিরাজ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মহানবী (সা.) মিরাজের রাতে মক্কা থেকে বোরাকে চড়ে প্রথমে বায়তুল মুকাদ্দাসে আসেন। সেখানে তিনি অন্য সকল নবী-রাসূলদের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন এবং এরপরই ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন।
৪. মুসলিম বিজয় ও পরবর্তী সংস্করণ
হযরত ওমর (রা.)-এর যুগ: ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হযরত ওমর (রা.) বিনা রক্তপাতে জেরুজালেম বিজয় করেন। তিনি তখন এই এলাকায় একটি সাধারণ কাঠের মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।
উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমল: পরবর্তীকালে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ান এবং তাঁর পুত্র আল-ওয়ালিদ এই মসজিদের বিশাল স্থাপনা ও গম্বুজ নির্মাণ শুরু করেন। 'কুব্বাতুস সাখরা' বা ডোম অব দ্য রক-ও এই সময়কালে নির্মিত হয়।
৫. ক্রুসেডারদের দখল ও সালাহউদ্দিন আইয়ুবি
১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ক্রুসেডের সময় খ্রিস্টানরা জেরুজালেম দখল করে নেয় এবং মসজিদটিকে গির্জা ও আস্তাবল হিসেবে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে বীর সেনানী সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি পুনরায় জেরুজালেম জয় করেন এবং মসজিদটিকে পবিত্রতা ফিরিয়ে দিয়ে সংস্কার করেন।
৬. বর্তমান প্রেক্ষাপট
মসজিদ আল আকসা বলতে কেবল ধূসর গম্বুজের মূল ভবনটি নয়, বরং পুরো ১৪৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা (হারাম আল-শরিফ)-কে বোঝানো হয়। বর্তমানে এই পবিত্র স্থানটি ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত এবং এটি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
![]() |
| Masjid al aksah |

